ইতালিতে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের খোঁজ নিতে বাসায় গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তিনি বাঁধনের বাসায় যান। বিষয়টি বাঁধন নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশ ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজারে পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকটের খবর এসেছে।
ফলে একজন পরিচিত শিল্পীর খোঁজ নিতে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সরাসরি বাসায় যাওয়ার ঘটনা এবং একই সময়ে হাজারো শিশুর হাম আক্রান্ত হওয়ার পরিস্থিতি পাশাপাশি রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে ❝হামে আক্রান্ত শিশুরা উপেক্ষিত❞ এমন বক্তব্য সরাসরি তথ্য হিসেবে বলা যথাযথ হবে না। সরকার ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় নতুন টিকাও ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হাম-রুবেলা টিকার দেশব্যাপী মজুত সংকট, নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত জাতীয় সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্নটি শুধু একজন শিল্পীর খোঁজ নেওয়া নিয়ে নয়। চলমান হাম সংকটে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা, টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের কাছে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কতটা কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারছে, সেটিই এখন বড় জনস্বাস্থ্য প্রশ্ন।
Admin